November 2, 2026
Important 10 Reconnaissance Tools every Ethical Hackers.
প্রত্যেক এথিক্যাল হ্যাকারের ব্যবহার করা উচিত এমন সেরা ১০টি রিকনেসান্স টুল

By Zakirdev
12 min read
প্রত্যেক এথিক্যাল হ্যাকারের ব্যবহার করা উচিত এমন সেরা ১০টি রিকনেসান্স টুল
বিষয়: সাইবার নিরাপত্তা, এথিক্যাল হ্যাকিং ও তথ্য অনুসন্ধান
১. ভূমিকা: হ্যাকিংয়ের আগে তথ্য সংগ্রহ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
কোনো সিস্টেমের নিরাপত্তাগত দুর্বলতা খুঁজে বের করতে সব সময় সেটিকে হ্যাক করার প্রয়োজন হয় না। অনেক সময় পরীক্ষা শুরু করার আগেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়।
সাইবার নিরাপত্তা শেখার শুরুতে অনেকেই মনে করেন, হ্যাকিং বলতে শুধু বিভিন্ন টুল চালানো, নেটওয়ার্ক পোর্ট স্ক্যান করা এবং দুর্বলতা খুঁজে বের করাকে বোঝায়।
কিন্তু প্রকৃত নিরাপত্তা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এসব কাজের আগেই একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ রয়েছে। সেটি হলো রিকনেসান্স (Reconnaissance) বা প্রাথমিক তথ্য অনুসন্ধান।
কোনো ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা পরীক্ষা করার আগে একজন এথিক্যাল হ্যাকারকে কয়েকটি বিষয় জানতে হয়:
- প্রতিষ্ঠানটির কোন কোন ডোমেইন রয়েছে?
- কোন সার্ভিসগুলো ইন্টারনেট থেকে ব্যবহার করা যায়?
- প্রতিষ্ঠানের কোনো পুরোনো বা ভুলে যাওয়া সাবডোমেইন আছে কি?
- ওয়েবসাইটটি কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে?
- প্রতিষ্ঠানটি ভুলবশত কোনো গোপন তথ্য প্রকাশ করেছে কি?
- কোন সিস্টেমগুলো আরও নিরাপত্তা পরীক্ষার আওতায় আনা প্রয়োজন?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার প্রক্রিয়াই রিকনেসান্স।
এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ একজন আক্রমণকারী কোনো দুর্বলতার সুযোগ নেওয়ার আগেই একটি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে কত তথ্য সংগ্রহ করতে পারে, তা এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বোঝা যায়।
ভালো বিষয় হলো, নতুনদের রিকনেসান্স শেখার জন্য ব্যয়বহুল সফটওয়্যার প্রয়োজন হয় না। অনেক কার্যকর টুল বিনামূল্যে, ওপেন সোর্স অথবা সরাসরি ওয়েব ব্রাউজার থেকে ব্যবহার করা যায়।
এই লেখায় ১০টি গুরুত্বপূর্ণ রিকনেসান্স টুলের কাজ, ব্যবহার, সুবিধা এবং নতুনদের শেখার বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়েছে।
২. সাইবার নিরাপত্তায় রিকনেসান্স কী?
রিকনেসান্স হলো কোনো সিস্টেমের নিরাপত্তা মূল্যায়ন বা অন্য কোনো অনুমোদিত নিরাপত্তাসংক্রান্ত কাজ শুরু করার আগে সেই সিস্টেম সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করার প্রক্রিয়া।
ধরুন, আপনি একটি ভবনের নিরাপত্তা পরীক্ষা করবেন। পরীক্ষা শুরু করার আগে আপনি জানতে চাইবেন:
- ভবনের কাঠামো কেমন?
- প্রবেশপথগুলো কোথায়?
- কোন কোন অংশ সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত?
- কোথায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা পরীক্ষা প্রয়োজন?
একইভাবে সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে রিকনেসান্সের মাধ্যমে নিচের তথ্য সংগ্রহ করা হয়:
- ডোমেইন নাম
- আইপি অ্যাড্রেস
- ডিএনএস রেকর্ড
- খোলা নেটওয়ার্ক পোর্ট
- প্রকাশ্যে থাকা ওয়েবসাইট
- ব্যবহৃত সফটওয়্যার ও প্রযুক্তি
- সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ডকুমেন্ট
রিকনেসান্স প্রধানত দুই ধরনের।
২.১ প্যাসিভ রিকনেসান্স (Passive Reconnaissance)
এটি এমন একটি তথ্য সংগ্রহ পদ্ধতি, যেখানে লক্ষ্যবস্তু সিস্টেমে সরাসরি অনুসন্ধানমূলক অনুরোধ না পাঠিয়ে আগে থেকে প্রকাশ্যে থাকা তথ্য ব্যবহার করা হয়।
উদাহরণ:
- প্রকাশ্য রেকর্ড অনুসন্ধান করা।
- সার্টিফিকেট ট্রান্সপারেন্সি লগ পরীক্ষা করা।
- প্রকাশ্যে থাকা ওয়েবসাইট পর্যবেক্ষণ করা।
- সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহ করা।
২.২ অ্যাকটিভ রিকনেসান্স (Active Reconnaissance)
এই পদ্ধতিতে লক্ষ্যবস্তু সিস্টেমের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
উদাহরণ:
- অনুমোদিত আইপি অ্যাড্রেস স্ক্যান করা।
- কোন নেটওয়ার্ক পোর্ট খোলা রয়েছে তা পরীক্ষা করা।
- নেটওয়ার্ক সার্ভিস শনাক্ত করতে অনুরোধ পাঠানো।
প্যাসিভ ও অ্যাকটিভ রিকনেসান্সের পার্থক্য বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অ্যাকটিভ রিকনেসান্সের ফলে নেটওয়ার্কে ট্রাফিক তৈরি হয়, নিরাপত্তা সতর্কতা চালু হতে পারে এবং সংবেদনশীল বা দুর্বল সিস্টেমের কার্যক্রম প্রভাবিত হতে পারে।
নতুনদের জন্য পরামর্শ: প্রথমে প্যাসিভ রিকনেসান্স শেখা ভালো। কোনো বাস্তব প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে টুল ব্যবহার করার আগে অবশ্যই স্পষ্ট অনুমতি এবং পরীক্ষার নির্ধারিত সীমা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে।
৩. সেরা ১০টি রিকনেসান্স টুলের বিস্তারিত আলোচনা
৩.১ Nmap — নেটওয়ার্ক পোর্ট ও সার্ভিস শনাক্তকরণ
প্রধান কাজ: খোলা নেটওয়ার্ক পোর্ট খুঁজে বের করা এবং সেখানে চালু থাকা সার্ভিস শনাক্ত করা।
ধরন: নেটওয়ার্ক অনুসন্ধান টুল
Nmap সাইবার নিরাপত্তার জগতে অন্যতম পরিচিত নেটওয়ার্ক রিকনেসান্স টুল।
এটি ব্যবহার করে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা:
- নেটওয়ার্কে সক্রিয় ডিভাইস শনাক্ত করতে পারেন।
- খোলা পোর্ট খুঁজে বের করতে পারেন।
- কোন পোর্টে কী ধরনের সার্ভিস চলছে তা জানতে পারেন।
- কোনো সিস্টেমের প্রকাশ্যে উন্মুক্ত নেটওয়ার্ক সার্ভিস সম্পর্কে ধারণা নিতে পারেন।
ধরুন, একটি সার্ভারে একাধিক নেটওয়ার্ক পোর্ট রয়েছে। কিছু পোর্ট ওয়েবসাইট পরিচালনার জন্য ব্যবহার হচ্ছে, আবার কিছু পোর্ট দূরবর্তী প্রশাসনিক কাজের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।
Nmap দিয়ে কোন পোর্টগুলো নেটওয়ার্কের অনুরোধে সাড়া দিচ্ছে তা পরীক্ষা করা যায়।
উদাহরণ কমান্ড:
nmap -sV 192.168.56.10
এখানে:
- nmap হলো টুলের নাম।
- -sV অপশনটি শনাক্ত হওয়া খোলা পোর্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সার্ভিস চিহ্নিত করার চেষ্টা করে।
- 192.168.56.10 একটি উদাহরণ আইপি অ্যাড্রেস।
অনুশীলনের সময় এই উদাহরণ আইপির পরিবর্তে নিজের অথবা পরীক্ষার অনুমতি রয়েছে এমন মেশিনের আইপি ব্যবহার করতে হবে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ?
Nmap-এর ফলাফল থেকে বোঝা যায় কোনো সার্ভারে ওয়েব সার্ভিস অথবা অন্য কোনো নেটওয়ার্ক সার্ভিস চালু রয়েছে কি না।
তবে মনে রাখতে হবে:
- কোনো পোর্ট খোলা থাকলেই সেটি নিরাপত্তাগত দুর্বলতা নয়।
- পোর্ট বন্ধ থাকলেই পুরো সিস্টেম নিরাপদ, এমনও নয়।
নতুনদের যা শেখা উচিত:
- খোলা, বন্ধ এবং ফিল্টার করা পোর্টের পার্থক্য।
- সার্ভিস শনাক্তকরণের ফলাফল ব্যাখ্যা করা।
- কোনো সার্ভিস প্রকাশ্যে থাকার কথা কি না তা যাচাই করা।
- স্ক্যানের ফলাফল প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত সার্ভিস তালিকার সঙ্গে তুলনা করা।
- অপ্রয়োজনীয়ভাবে প্রকাশ্যে থাকা সার্ভিস শনাক্ত করা।
৩.২ WHOIS — ডোমেইন নিবন্ধনের তথ্য অনুসন্ধান
প্রধান কাজ: ডোমেইন নিবন্ধন সম্পর্কিত প্রকাশ্য তথ্য খুঁজে বের করা।
ধরন: ডোমেইন তথ্য অনুসন্ধান
WHOIS একটি তথ্য অনুসন্ধান প্রোটোকল। একই নামে ডোমেইন নিবন্ধনের তথ্য সরবরাহকারী সেবাগুলোও পরিচিত।
এটি ব্যবহার করে সাধারণত নিচের তথ্য জানা যায়:
- ডোমেইন কোন নিবন্ধনকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিবন্ধিত।
- ডোমেইন নিবন্ধনের তারিখ।
- ডোমেইনের নেমসার্ভার।
- কিছু ক্ষেত্রে নিবন্ধনকারীর পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য।
ধরুন, একজন নিরাপত্তা গবেষক একটি ডোমেইন নিয়ে অনুসন্ধান করছেন। তিনি WHOIS ব্যবহার করে জানতে পারেন, ডোমেইনটি কোন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিবন্ধিত এবং কখন নিবন্ধন করা হয়েছিল।
গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা:
সব ডোমেইনের মালিকের পরিচয় প্রকাশ্যে পাওয়া যায় না। অনেকেই ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা সেবা ব্যবহার করেন। বিভিন্ন গোপনীয়তা আইন ও নীতির কারণেও কিছু তথ্য প্রকাশ করা হয় না।
তাই WHOIS দিয়ে সব সময় ওয়েবসাইটের প্রকৃত মালিকের পরিচয় জানা সম্ভব নয়।
কেন গুরুত্বপূর্ণ?
- ডোমেইনের নিবন্ধনকারী প্রতিষ্ঠান যাচাই করা যায়।
- নিবন্ধনসংক্রান্ত পরিবর্তন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
- নিরাপত্তা অনুসন্ধানে অতিরিক্ত প্রাসঙ্গিক তথ্য পাওয়া যায়।
তবে WHOIS-এর তথ্য দিয়ে এককভাবে কোনো ওয়েবসাইটকে নিরাপদ বা ক্ষতিকর প্রমাণ করা যায় না।
নতুনদের যা শেখা উচিত:
- ডোমেইনের WHOIS তথ্য অনুসন্ধান করা।
- নিবন্ধনকারী প্রতিষ্ঠানের নাম সংগ্রহ করা।
- নেমসার্ভারের তথ্য বোঝা।
- নিবন্ধনের গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলো পর্যবেক্ষণ করা।
- সংগৃহীত তথ্য অন্যান্য প্রকাশ্য উৎসের সঙ্গে তুলনা করা।
৩.৩ theHarvester — প্রকাশ্যে থাকা তথ্য সংগ্রহ
প্রধান কাজ: ডোমেইন ও প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত প্রকাশ্য তথ্য সংগ্রহ করা।
ধরন: ওপেন সোর্স তথ্য অনুসন্ধান টুল
theHarvester একটি ওপেন সোর্স রিকনেসান্স টুল। এটি সমর্থিত প্রকাশ্য তথ্যের উৎস থেকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করতে সাহায্য করে।
উৎস এবং কনফিগারেশনের ওপর নির্ভর করে এটি নিচের তথ্য খুঁজে পেতে পারে:
- ইমেইল অ্যাড্রেস
- সাবডোমেইন
- হোস্টনেম
- সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্ক অবকাঠামোর তথ্য
উদাহরণ:
ধরুন, আপনি নিজের প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা মূল্যায়ন করছেন।
আপনার উদ্দেশ্য হলো প্রতিষ্ঠানের ডোমেইনের সঙ্গে প্রকাশ্যে যুক্ত ইমেইল অ্যাড্রেস ও সাবডোমেইনগুলো খুঁজে বের করা।
প্রতিটি তথ্যের উৎস আলাদাভাবে পরীক্ষা না করে theHarvester-এর মাধ্যমে সমর্থিত উৎস থেকে এসব তথ্য সংগ্রহ ও সংগঠিত করা যায়।
কিছু উৎস ব্যবহারের জন্য এপিআই কী প্রয়োজন হতে পারে। ফলাফলের পরিমাণ নির্ভর করে উৎসের প্রাপ্যতা এবং টুলের কনফিগারেশনের ওপর।
কেন গুরুত্বপূর্ণ?
- প্রতিষ্ঠানের কোন ইমেইল অ্যাড্রেস প্রকাশ্যে রয়েছে তা বোঝা যায়।
- অতিরিক্ত সাবডোমেইন আবিষ্কার করা যায়।
- অনুমোদিত নিরাপত্তা পরীক্ষার জন্য আরও সিস্টেম শনাক্ত হতে পারে।
- অপ্রয়োজনীয়ভাবে প্রকাশিত তথ্য চিহ্নিত করা যায়।
নতুনদের যা শেখা উচিত:
- নিজের ডোমেইন নিয়ে তথ্য সংগ্রহের অনুশীলন।
- টুলটি কোন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তা জানা।
- আলাদা উৎসে আলাদা ফলাফল কেন আসে তা বোঝা।
- সংগৃহীত ইমেইল বর্তমানে সক্রিয় কি না যাচাই করা।
- গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল অন্য উৎস দিয়ে নিশ্চিত করা।
৩.৪ Amass — ডোমেইন ও সাবডোমেইনের মানচিত্র তৈরি
প্রধান কাজ: ডোমেইন, সাবডোমেইন এবং ইন্টারনেটমুখী অবকাঠামোর তথ্য সংগ্রহ ও মানচিত্র তৈরি করা।
ধরন: বহিরাগত আক্রমণযোগ্য ক্ষেত্র বিশ্লেষণ
OWASP Amass একটি ওপেন সোর্স টুলসমষ্টি, যা প্রতিষ্ঠানের বাহ্যিক ডিজিটাল অবকাঠামো শনাক্ত ও বিশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়।
এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কিত ডোমেইন এবং সাবডোমেইন খুঁজে বের করা।
সাবডোমেইন কী?
ধরুন, একটি কাল্পনিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান ডোমেইন:
example.com
প্রতিষ্ঠানটি আরও ব্যবহার করতে পারে:
- shops.example.com — অনলাইন দোকান
- supports.example.com — গ্রাহক সহায়তা
- devs.example.com — উন্নয়ন পরিবেশ
প্রতিটি সাবডোমেইনের আলাদা কাজ থাকতে পারে।
প্রতিষ্ঠানগুলো কখনো কখনো পুরোনো সাবডোমেইন ভুলে যায় অথবা যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করে না।
Amass ব্যবহার করে এসব সম্পদের তথ্য সংগ্রহ করে একটি তুলনামূলক পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করা যায়।
টুলটির কিছু পদ্ধতি সরাসরি অবকাঠামোর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। তাই নির্বাচিত অপশনগুলোর কার্যক্রম বুঝে ব্যবহার করা জরুরি।
কেন গুরুত্বপূর্ণ?
যে ডিজিটাল সম্পদের অস্তিত্ব সম্পর্কে প্রতিষ্ঠান জানে না, সেটির নিরাপত্তা যথাযথভাবে নিশ্চিত করা কঠিন।
সাবডোমেইন আবিষ্কারের মাধ্যমে পাওয়া যেতে পারে:
- পুরোনো উন্নয়ন পরিবেশ।
- পূর্বে ব্যবহৃত কিন্তু ভুলে যাওয়া সাবডোমেইন।
- স্থানান্তরের সময় বাদ পড়া সিস্টেম।
- প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তনের পর অব্যবহৃত রয়ে যাওয়া সিস্টেম।
তবে সাবডোমেইন পাওয়া মানেই সেখানে দুর্বলতা রয়েছে, এমন নয়।
নতুনদের যা শেখা উচিত:
- ডোমেইনের মৌলিক ধারণা।
- ডিএনএস রেকর্ড।
- সাবডোমেইনের কাজ।
- Amass-এর বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ পদ্ধতি।
- অনুমোদিত সীমার মধ্যে পরীক্ষা চালানো।
- ফলাফল প্রতিষ্ঠানের পরিচিত সম্পদ তালিকার সঙ্গে তুলনা করা।
৩.৫ Subfinder — দ্রুত সাবডোমেইন অনুসন্ধান
প্রধান কাজ: প্রকাশ্য তথ্যের উৎস থেকে দ্রুত সাবডোমেইন খুঁজে বের করা।
ধরন: প্যাসিভ সাবডোমেইন অনুসন্ধান
Subfinder একটি জনপ্রিয় সাবডোমেইন অনুসন্ধান টুল।
এটি মূলত বিভিন্ন সমর্থিত প্রকাশ্য উৎস ব্যবহার করে প্যাসিভ পদ্ধতিতে সাবডোমেইনের তালিকা সংগ্রহ করে।
উদাহরণস্বরূপ, কোনো প্রতিষ্ঠানের সাবডোমেইন সম্পর্কে তথ্য থাকতে পারে:
- প্রকাশ্য ডিএনএস তথ্যের মধ্যে।
- সার্টিফিকেট রেকর্ডে।
- অন্যান্য উপলব্ধ প্রকাশ্য উৎসে।
Subfinder এসব তথ্য সংগ্রহ করে একটি তালিকা তৈরি করতে সাহায্য করে।
উদাহরণ কমান্ড:
subfinder -d example.com
এখানে example.com একটি উদাহরণ ডোমেইন। অনুশীলনের জন্য নিজের বা অনুমোদিত ডোমেইন ব্যবহার করতে হবে।
কিছু তথ্যের উৎস থেকে ফলাফল পেতে এপিআই কী যোগ করতে হতে পারে।
Subfinder এবং Amass-এর পার্থক্য
বিষয়:
Subfinder
Amass
মূল উদ্দেশ্য:-
1.দ্রুত সাবডোমেইন অনুসন্ধান
2.বিস্তৃত অবকাঠামো ও সাবডোমেইন বিশ্লেষণ
3.তথ্য সংগ্রহ
4.প্রধানত প্যাসিভ উৎস
5.বিভিন্ন উৎস ও পদ্ধতি
6.ব্যবহার
7.প্রাথমিক অনুসন্ধান
8.বৃহত্তর সম্পদ মানচিত্র তৈরি
প্রতিটি নিরাপত্তা মূল্যায়নে দুটি টুলই ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক নয়। কাজের উদ্দেশ্য অনুযায়ী উপযুক্ত টুল নির্বাচন করতে হবে।
নতুনদের যা শেখা উচিত:
- নিজের ডোমেইনে প্যাসিভ সাবডোমেইন অনুসন্ধান।
- ফলাফল সংরক্ষণ করা।
- পরিচিত সাবডোমেইনের সঙ্গে তুলনা করা।
- পুরোনো টেস্টিং পরিবেশ খুঁজে দেখা।
- অপ্রয়োজনীয় বা পুরোনো সার্ভিস শনাক্ত করা।
- প্রতিটি সম্পদের মালিকানা ও পরীক্ষার অনুমতি যাচাই করা।
৩.৬ Shodan — ইন্টারনেটে উন্মুক্ত ডিভাইস ও সার্ভিস অনুসন্ধান
প্রধান কাজ: ইন্টারনেটে সংযুক্ত এবং প্রকাশ্যে দৃশ্যমান ডিভাইস ও নেটওয়ার্ক সার্ভিসের তথ্য অনুসন্ধান।
ধরন: ইন্টারনেট অবকাঠামো সার্চ ইঞ্জিন
Shodan একটি বিশেষায়িত সার্চ ইঞ্জিন।
সাধারণ সার্চ ইঞ্জিন প্রধানত ওয়েবপেজের তথ্য সংগ্রহ ও তালিকাভুক্ত করে। অন্যদিকে Shodan ইন্টারনেটে উন্মুক্ত বিভিন্ন নেটওয়ার্ক সার্ভিস ও ডিভাইস থেকে পর্যবেক্ষণ করা তথ্য অনুসন্ধানের সুবিধা দেয়।
উপলব্ধ তথ্যের ওপর নির্ভর করে Shodan-এর ফলাফলে থাকতে পারে:
- আইপি অ্যাড্রেস।
- খোলা পোর্ট।
- সার্ভিস ব্যানার।
- সার্ভারে ব্যবহৃত সফটওয়্যার সম্পর্কে ধারণা।
উদাহরণ:
ধরুন, একটি প্রতিষ্ঠান মনে করে তাদের ইন্টারনেটে উন্মুক্ত মাত্র তিনটি ওয়েব সার্ভার রয়েছে।
কিন্তু Shodan-এ অনুসন্ধান করে আরও কিছু প্রকাশ্যে থাকা সিস্টেমের তথ্য পাওয়া গেল।
এই তথ্য প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা দলকে অতিরিক্ত অনুসন্ধান করতে সাহায্য করতে পারে।
সীমাবদ্ধতা:
- Shodan-এর তথ্য পুরোনো হতে পারে।
- সার্ভিস ব্যানার সব সময় সঠিক সফটওয়্যার শনাক্ত করতে পারে না।
- অনুসন্ধানে কোনো সিস্টেম পাওয়া মানেই সেটি দুর্বল নয়।
নতুনদের যা শেখা উচিত:
- Shodan-এর প্রকাশ্যে তালিকাভুক্ত উদাহরণ পর্যবেক্ষণ।
- সার্ভিস সম্পর্কিত তথ্য পড়া।
- নিজের ডোমেইন বা আইপি পরিসরের তথ্য অনুসন্ধান।
- উপযুক্ত অনুসন্ধান ফিল্টার বোঝা।
- অপ্রত্যাশিতভাবে প্রকাশ্যে থাকা সার্ভিস শনাক্ত করা।
- প্রয়োজনহীন দূরবর্তী প্রশাসনিক সার্ভিস বিশ্বস্ত নেটওয়ার্কে সীমাবদ্ধ রাখা দরকার কি না যাচাই করা।
মূল শিক্ষা হলো, কোনো সার্ভিস ইন্টারনেটে উন্মুক্ত থাকবে কি না, তা প্রতিষ্ঠানের সচেতন সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত।
৩.৭ Censys — ইন্টারনেট অবকাঠামো ও নিরাপত্তা সার্টিফিকেট বিশ্লেষণ
প্রধান কাজ: প্রকাশ্যে দৃশ্যমান ইন্টারনেট অবকাঠামো, নেটওয়ার্ক সার্ভিস এবং সার্টিফিকেট সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ।
ধরন: ইন্টারনেট অবকাঠামো পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্ম
Censys এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যার মাধ্যমে ইন্টারনেটে দৃশ্যমান বিভিন্ন হোস্ট, নেটওয়ার্ক সার্ভিস ও সার্টিফিকেট সম্পর্কিত তথ্য অনুসন্ধান করা যায়।
এই টুলের গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যবহার হলো টিএলএস (TLS) সার্টিফিকেট বিশ্লেষণ।
TLS সার্টিফিকেট ক্লায়েন্ট ও সার্ভারের মধ্যে এনক্রিপ্ট করা সংযোগ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে।
সার্টিফিকেটের তথ্য থেকে কখনো কখনো সংশ্লিষ্ট ডোমেইনগুলোর নামও পাওয়া যায়।
উদাহরণ:
একটি সার্টিফিকেটে একাধিক সম্পর্কিত ডোমেইনের নাম থাকতে পারে। এসব নাম পরীক্ষা করে নিরাপত্তা দল এমন ডিজিটাল সম্পদ শনাক্ত করতে পারে, যেগুলো প্রাথমিক তালিকায় ছিল না।
কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বড় প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায়ই একাধিক ডোমেইন, সাবডোমেইন, ক্লাউড সার্ভিস ও সার্টিফিকেট পরিচালনা করে।
সঠিক তালিকা না থাকলে কিছু উন্মুক্ত সার্ভিস বা পুরোনো সিস্টেম নজর এড়িয়ে যেতে পারে।
নতুনদের যা শেখা উচিত:
- TLS সার্টিফিকেট কীভাবে কাজ করে।
- সার্টিফিকেটে ডোমেইনের নাম কীভাবে যুক্ত থাকে।
- ডোমেইনগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক।
- প্রকাশ্যে দৃশ্যমান অবকাঠামোর তালিকা তৈরি।
- ফলাফল যাচাই করার পদ্ধতি।
মনে রাখতে হবে, কোনো সার্টিফিকেটে ডোমেইনের নাম থাকলেই সেই ডোমেইনের মালিকানা নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বলে প্রমাণিত হয় না।
শেয়ার্ড হোস্টিং ও তৃতীয় পক্ষের সেবা ব্যবহারের কারণে সম্পর্ক জটিল হতে পারে। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যাচাই করা জরুরি।
৩.৮ DNSrecon — ডিএনএস রেকর্ড ও ডোমেইন কনফিগারেশন বিশ্লেষণ
প্রধান কাজ: ডোমেইনের ডিএনএস রেকর্ড ও কনফিগারেশন পরীক্ষা।
ধরন: ডিএনএস রিকনেসান্স টুল
DNSrecon একটি ওপেন সোর্স টুল, যা ডোমেইন নেম সিস্টেম বা ডিএনএস সম্পর্কিত তথ্য অনুসন্ধানে ব্যবহৃত হয়।
ডিএনএস এমন একটি ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে ডোমেইন নামের সঙ্গে কম্পিউটারের প্রয়োজনীয় নেটওয়ার্ক তথ্যের সম্পর্ক নির্ধারণ করা হয়।
আপনি যখন কোনো ওয়েবসাইটে যান, তখন ডিএনএস রেকর্ড আপনার ডিভাইসকে অনুরোধ কোথায় পাঠাতে হবে তা নির্ধারণে সাহায্য করতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ ডিএনএস রেকর্ড:
রেকর্ড
কাজ
- A হোস্টনেমের সঙ্গে IPv4 অ্যাড্রেস যুক্ত করে।
2.AAAA হোস্টনেমের সঙ্গে IPv6 অ্যাড্রেস যুক্ত করে।
3.MX ডোমেইনের মেইল সার্ভার শনাক্ত করে।
4.NS ডোমেইনের অথরিটেটিভ নেমসার্ভার নির্দেশ করে।
5.TXT ডোমেইন যাচাই ও ইমেইল নিরাপত্তা নীতিসহ বিভিন্ন তথ্য রাখতে পারে।
DNSrecon-এর সাহায্যে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা ডিএনএস রেকর্ড পরীক্ষা এবং ডোমেইনের কনফিগারেশন বিশ্লেষণ করতে পারেন।
কেন গুরুত্বপূর্ণ?
- ভুল ডিএনএস কনফিগারেশন শনাক্ত করা।
- পুরোনো রেকর্ড খুঁজে বের করা।
- অপ্রত্যাশিত সার্ভিসের তথ্য পাওয়া।
- ডোমেইনের কাঠামো বোঝা।
- সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি অনুসন্ধান করা।
ভুল বা পুরোনো ডিএনএস রেকর্ডের কারণে সার্ভিসে সমস্যা হতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
নতুনদের যা শেখা উচিত:
- প্রধান ডিএনএস রেকর্ডগুলোর কাজ।
- নিজের ডোমেইনের ডিএনএস রেকর্ড পরীক্ষা।
- রেকর্ডের সঙ্গে বাস্তব সার্ভিসের মিল যাচাই।
- অপ্রত্যাশিত কনফিগারেশন পর্যবেক্ষণ।
- পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে কি না নির্ধারণ।
তবে অস্বাভাবিক ডিএনএস রেকর্ড দেখলেই সেটিকে নিরাপত্তাগত দুর্বলতা মনে করা যাবে না। অনেক বৈধ কনফিগারেশনও প্রথমে অস্বাভাবিক মনে হতে পারে।
৩.৯ WhatWeb — ওয়েবসাইটের ব্যবহৃত প্রযুক্তি শনাক্তকরণ
প্রধান কাজ: কোনো ওয়েবসাইটে ব্যবহৃত প্রযুক্তি শনাক্ত করা।
ধরন: ওয়েব প্রযুক্তি শনাক্তকরণ টুল
একটি ওয়েবসাইট ব্রাউজারে দেখলে সেটির পেছনে কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, তা সব সময় বোঝা যায় না।
একটি ওয়েবসাইটে ব্যবহার হতে পারে:-
- কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম।
- জাভাস্ক্রিপ্ট ফ্রেমওয়ার্ক।
- ওয়েব সার্ভার সফটওয়্যার।
- অ্যানালিটিক্স সেবা।
- অন্যান্য সফটওয়্যার কম্পোনেন্ট।
WhatWeb বিভিন্ন HTTP রেসপন্স এবং শনাক্তকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করে এসব প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে।
উদাহরণ:-
টুলটি এমন কিছু তথ্য শনাক্ত করতে পারে, যা থেকে বোঝা যায় একটি ওয়েবসাইটে WordPress অথবা নির্দিষ্ট কোনো ওয়েব সার্ভার ব্যবহৃত হচ্ছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বিভিন্ন প্রযুক্তির নিরাপত্তা প্রয়োজনীয়তা, আপডেট প্রকাশের সময় এবং পরিচিত দুর্বলতা আলাদা হতে পারে।
কোনো প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে পুরোনো সফটওয়্যার শনাক্ত হলে সেটির আপডেট প্রয়োজন কি না অনুসন্ধান করা যায়।
তবে প্রযুক্তি শনাক্তকরণের ফলাফল সব সময় নির্ভুল হয় না।
কারণ:-
- ওয়েবসাইট প্রযুক্তির পরিচয় গোপন রাখতে পারে।
- প্রক্সি ব্যবহার করতে পারে।
- একাধিক প্রযুক্তি একসঙ্গে ব্যবহার করতে পারে।
তাই শনাক্ত হওয়া প্রযুক্তির তথ্যকে প্রাথমিক সূত্র হিসেবে ধরে পরে যাচাই করতে হবে।
নতুনদের যা শেখা উচিত:
- নিজের ওয়েবসাইটে WhatWeb ব্যবহার।
- ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্বল তৈরি করা পরীক্ষামূলক পরিবেশে অনুশীলন।
- শনাক্ত হওয়া প্রযুক্তির তালিকা পর্যালোচনা।
- বাস্তব কনফিগারেশনের সঙ্গে ফলাফল তুলনা।
- প্রযুক্তির নিরাপত্তা আপডেট ও সতর্কতা সম্পর্কে জানা।
৩.১০ Wayback Machine — ওয়েবসাইটের পুরোনো সংস্করণ অনুসন্ধান
প্রধান কাজ: ওয়েবসাইটের পূর্ববর্তী সময়ের সংরক্ষিত সংস্করণ পরীক্ষা।
ধরন: ঐতিহাসিক ওয়েব তথ্য অনুসন্ধান
সব রিকনেসান্স টুল কমান্ড লাইনের মাধ্যমে চালাতে হয় না।
Internet Archive-এর Wayback Machine একটি ওয়েবভিত্তিক সেবা, যা সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন প্রকাশ্য ওয়েবসাইটের সংরক্ষিত সংস্করণ দেখার সুযোগ দেয়।
এটির মাধ্যমে বোঝা যায়, কোনো ওয়েবসাইট অতীতে কেমন ছিল এবং সময়ের সঙ্গে কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে।
উদাহরণ:
ওয়েবসাইটের পুরোনো সংস্করণে পাওয়া যেতে পারে:-
- বর্তমানে সরিয়ে ফেলা কোনো সার্ভিসের তথ্য।
- পুরোনো ইমেইল অ্যাড্রেস।
- পূর্ববর্তী ডকুমেন্টেশন।
- পরে অপসারণ করা প্রকাশ্য ডিরেক্টরি।
- কোনো ডোমেইনের পূর্ববর্তী ব্যবহার সম্পর্কে তথ্য।
এ ধরনের তথ্য নিরাপত্তা অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট দিতে পারে।
সীমাবদ্ধতা:
- সব ওয়েবপেজ সংরক্ষিত হয় না।
- সংরক্ষিত সংস্করণ অসম্পূর্ণ হতে পারে।
- পুরোনো পেজে কোনো সার্ভিস থাকার অর্থ এই নয় যে সেটি এখনো সক্রিয়।
নতুনদের যা শেখা উচিত:
- নিজের ওয়েবসাইটের পুরোনো সংস্করণ দেখা।
- বর্তমান ও পুরোনো পেজের তুলনা।
- পুরোনো যোগাযোগের তথ্য খুঁজে দেখা।
- পূর্বে প্রকাশিত তথ্য অন্য কোথাও আছে কি না যাচাই।
- সংবেদনশীল তথ্য পাওয়া গেলে দায়িত্বশীলভাবে প্রতিবেদন করা।
অন্যের সংবেদনশীল তথ্য পাওয়া গেলে সেটির অপব্যবহার বা পুনঃপ্রচার করা উচিত নয়।
এই টুল থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পাওয়া যায়: ওয়েবসাইট থেকে কোনো তথ্য মুছে ফেললেই তার সব পুরোনো কপি মুছে যায় না।
৪. নতুনদের কোন টুল আগে শেখা উচিত?
একসঙ্গে ১০টি টুল শেখার চেষ্টা না করে ধাপে ধাপে শেখাই ভালো।
লেখক নতুনদের জন্য নিচের শেখার ক্রমটি প্রস্তাব করেছেন।
ক্রম
টুল
শেখার উদ্দেশ্য:-
১.WHOIS: ডোমেইন নিবন্ধনের তথ্য বোঝা
২.DNSrecon: ডিএনএস রেকর্ড শেখা
৩:Wayback Machine: ওয়েবসাইটের পুরোনো তথ্য দেখা
৪.WhatWeb: ওয়েবসাইটের প্রযুক্তি শনাক্ত করা
৫.Subfinder: সাবডোমেইন অনুসন্ধান
৬.theHarvester: প্রকাশ্য তথ্য সংগ্রহ
৭.Shodan: ইন্টারনেটে উন্মুক্ত সার্ভিস বোঝা
৮.Censys: অবকাঠামো ও সার্টিফিকেট বিশ্লেষণ
৯.Nmap: নেটওয়ার্ক সার্ভিস শনাক্ত করা
১০.Amass: বৃহত্তর বাহ্যিক অবকাঠামোর মানচিত্র তৈরি
এই ক্রমটি বাধ্যতামূলক নয়। নিজের বর্তমান দক্ষতা এবং সাইবার নিরাপত্তার কোন ক্ষেত্রে কাজ করতে চান, তার ওপর নির্ভর করে ক্রম পরিবর্তন করা যায়।
যাঁরা নেটওয়ার্কিংয়ে একেবারে নতুন, তাঁদের প্রথমে নিচের বিষয়গুলো শেখা উচিত:
- আইপি অ্যাড্রেস
- নেটওয়ার্ক পোর্ট
- ডিএনএস
- এইচটিটিপি (HTTP)
- টিএলএস (TLS)
শুধু টুলের কমান্ড মুখস্থ করার চেয়ে টুলের ফলাফল কী বোঝাচ্ছে, সেটি বুঝতে পারা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
৫. নতুনদের জন্য একটি বাস্তব অনুশীলন প্রকল্প
একসঙ্গে সব টুল ইনস্টল না করে কয়েকটি টুল নিয়ে একটি ছোট প্রকল্প করা যেতে পারে।
অনুশীলনের জন্য নিজের ডোমেইন নির্বাচন করুন। নিজের ডোমেইন না থাকলে পরীক্ষার অনুমতি রয়েছে এমন প্রশিক্ষণ পরিবেশ ব্যবহার করুন।
ধাপ ১: ডোমেইনের প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ
WHOIS এবং প্রকাশ্য ডিএনএস তথ্য ব্যবহার করে ডোমেইনের নিবন্ধন ও কনফিগারেশন সম্পর্কে জানুন।
ধাপ ২: পুরোনো তথ্য পর্যালোচনা
Wayback Machine দিয়ে দেখুন, সময়ের সঙ্গে ওয়েবসাইট কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে।
ধাপ ৩: সাবডোমেইন খুঁজে বের করা
Subfinder অথবা অন্য উপযুক্ত প্যাসিভ টুল ব্যবহার করে সম্ভাব্য সাবডোমেইনের তালিকা তৈরি করুন।
ধাপ ৪: ওয়েবসাইটের প্রযুক্তি শনাক্ত করা
অনুমোদিত ওয়েবসাইটে WhatWeb ব্যবহার করে ব্যবহৃত প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা নিন।
ধাপ ৫: প্রকাশ্যে থাকা সার্ভিসের তথ্য দেখা
Shodan অথবা Censys ব্যবহার করে নিজের অবকাঠামো সম্পর্কে অপ্রত্যাশিত কোনো প্রকাশ্য তথ্য রয়েছে কি না পরীক্ষা করুন।
ধাপ ৬: ফলাফল যাচাই করা
প্রতিটি তথ্যকে নিশ্চিত নিরাপত্তা সমস্যা হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না। সম্পদটির অস্তিত্ব, মালিকানা এবং কনফিগারেশন প্রত্যাশিত কি না তা যাচাই করুন।
ধাপ ৭: সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন তৈরি
কী তথ্য পাওয়া গেছে, কেন গুরুত্বপূর্ণ এবং কী পরিবর্তনের সুপারিশ করা হচ্ছে — এসব লিখে রাখুন।
প্রতিবেদনে থাকতে পারে:
- অপ্রয়োজনীয় প্রকাশ্য সার্ভিসের তথ্য।
- পুরোনো সাবডোমেইনের তথ্য।
- সংস্করণ যাচাই করা প্রয়োজন এমন ওয়েব প্রযুক্তির তথ্য।
এভাবে অনুশীলন করলে রিকনেসান্স শুধু টুলের নাম শেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; এটি বাস্তব নিরাপত্তাগত দক্ষতায় পরিণত হবে।
৬. ব্লু টিম ও নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের বিশ্লেষকদের জন্য রিকনেসান্সের গুরুত্ব
রিকনেসান্স সাধারণত পেনিট্রেশন টেস্টিং ও আক্রমণাত্মক নিরাপত্তা পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত হলেও প্রতিরক্ষামূলক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও এটি সমান গুরুত্বপূর্ণ।
ব্লু টিমের কাজের একটি অংশ হলো, আক্রমণকারী প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে প্রকাশ্যে কী কী তথ্য জানতে পারে, তা বোঝা।
একটি প্রতিষ্ঠানের কোন ডিজিটাল সম্পদ ইন্টারনেটে উন্মুক্ত রয়েছে, তা জানা না থাকলে নিরাপত্তা দল গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেম পর্যবেক্ষণ বা রক্ষণাবেক্ষণ করতে ব্যর্থ হতে পারে।
রিকনেসান্স নিচের কাজগুলোতে সহায়তা করে।
৬.১ বহিরাগত আক্রমণযোগ্য ক্ষেত্র ব্যবস্থাপনা
প্রকাশ্য ডোমেইন, সাবডোমেইন এবং সার্ভিস শনাক্ত করে প্রতিষ্ঠানের ইন্টারনেটমুখী সম্পদের সঠিক তালিকা তৈরি করা।
৬.২ সম্ভাব্য হুমকি অনুসন্ধান
প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো সম্পর্কে প্রকাশ্য তথ্য ব্যবহার করে অপ্রত্যাশিত সার্ভিস বা সম্পদের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহজনক কার্যক্রম অনুসন্ধান করা।
৬.৩ নিরাপত্তাগত দুর্বলতা ব্যবস্থাপনা
সফটওয়্যার প্রযুক্তি এবং প্রকাশ্যে থাকা সার্ভিস শনাক্ত করে কোথায় সংস্করণ যাচাই বা নিরাপত্তা সংশোধনী পর্যালোচনা প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করা।
৬.৪ নিরাপত্তা ঘটনার প্রতিক্রিয়া
অতীতের তথ্য ব্যবহার করে কোনো নিরাপত্তা ঘটনার আগে ওয়েবসাইট বা ডোমেইন কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে তা বোঝা।
৬.৫ নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধি
প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে প্রকাশ্যে কত তথ্য রয়েছে, তা জানলে কর্মীরা অভ্যন্তরীণ তথ্য, স্ক্রিনশট এবং সাংগঠনিক তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে আরও সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
আক্রমণকারীর দৃষ্টিকোণ থেকে রিকনেসান্স শেখার একটি বড় সুবিধা হলো, আক্রমণের আগেই কী তথ্য পাওয়া যেতে পারে তা বোঝা।
এই জ্ঞান প্রতিরক্ষামূলক নিরাপত্তা দলকে সম্পদের দৃশ্যমানতা বাড়াতে এবং অপ্রয়োজনীয় উন্মুক্ততা কমাতে সাহায্য করে।
৭. গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও উপসংহার
রিকনেসান্সের উদ্দেশ্য সবচেয়ে বেশি তথ্য সংগ্রহ করা বা সবচেয়ে বেশি টুল চালানো নয়।
এর প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো:-
- সঠিক প্রশ্ন করা।
- প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহ করা।
- সংগৃহীত তথ্যের অর্থ বোঝা।
- গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল যাচাই করা।
- কোন তথ্য কেন গুরুত্বপূর্ণ, তা ব্যাখ্যা করা।
- নিরাপত্তা উন্নত করার জন্য প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া।
- এই ১০টি টুলের প্রত্যেকটির আলাদা কাজ রয়েছে।
- Nmap: নেটওয়ার্ক সার্ভিস সম্পর্কে অনুসন্ধান করে।
- WHOIS: ডোমেইন নিবন্ধনের তথ্য দেয়।
- theHarvester: প্রকাশ্যে থাকা তথ্য সংগ্রহে সাহায্য করে।
- Amass: বৃহত্তর ডোমেইন ও বাহ্যিক অবকাঠামোর মানচিত্র তৈরিতে সাহায্য করে।
- Subfinder: সাবডোমেইন খুঁজে বের করে।
- Shodan: ইন্টারনেটে উন্মুক্ত সার্ভিস সম্পর্কে তথ্য দেয়।
- Censys: অবকাঠামো ও সার্টিফিকেট সম্পর্কিত তথ্য দেয়।
- DNSrecon: ডিএনএস রেকর্ড বিশ্লেষণে সাহায্য করে।
- WhatWeb: ওয়েবসাইটের প্রযুক্তি শনাক্ত করে।
- Wayback Machine: ওয়েবসাইটের পুরোনো সংস্করণ অনুসন্ধানে সাহায্য করে।
সব নিরাপত্তা মূল্যায়নে সব টুল ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। আবার কোনো টুলের ফলাফল পাওয়া গেলেই সেটিকে শতভাগ সঠিক ধরে নেওয়াও উচিত নয়।
একজন নতুন শিক্ষার্থীর জন্য সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হলো প্রথমে একটি টুল নির্বাচন করা, সেটির উদ্দেশ্য বোঝা এবং অনুমোদিত পরিবেশে অনুশীলন করা। এরপর পরবর্তী টুল শেখা।
ধীরে ধীরে বোঝা যাবে, কীভাবে আলাদা আলাদা অনুসন্ধানের ফলাফল একত্রিত হয়ে একটি সিস্টেমের বাহ্যিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরও পূর্ণাঙ্গ চিত্র তৈরি করে।
৮. সর্বশেষ নিরাপত্তা নির্দেশনা
শুধু নিজের মালিকানাধীন অথবা স্পষ্ট অনুমতি রয়েছে এমন সিস্টেম স্ক্যান করতে হবে।
কোনো তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যাচ্ছে মানেই সংশ্লিষ্ট সিস্টেমে আক্রমণ চালানো বা অননুমোদিত পরীক্ষা করার অনুমতি পাওয়া যায় না।
অ্যাকটিভ রিকনেসান্স অসতর্কভাবে চালালে নিরাপত্তা সতর্কতা তৈরি হতে পারে এবং সেবার কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।
তাই দায়িত্বশীলভাবে শিখতে হবে, ফলাফল যাচাই করতে হবে এবং অর্জিত দক্ষতা সিস্টেমকে আরও নিরাপদ করার কাজে ব্যবহার করতে হবে।